ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গড়িয়েছে দ্বিতীয় সপ্তাহে। বৃহস্পতি ও শুক্রবারের মত শনিবার রাতেও সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে। বিক্ষোভকারীদের আল্লাহর শত্রু আখ্যা দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিয়েছে ইরান সরকার।
ইরানের বিক্ষোভরত জনতাকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটিতে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী সরকার। শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের বিবৃতিতে বিক্ষোভে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, তাদের মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ইরানের সংবিধানে আল্লাহর শত্রুদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এদিকে দেশটির মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, বিক্ষোভে সহিংসতায় ১৪ নিরাপত্তারক্ষীসহ অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছে। আটক করা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার বিক্ষোভকারীকে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, একটি হাসপাতালেই ৭০টির বেশি মরদেহ নেওয়া হয়েছে।
ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় বিক্ষোভ-সহিংসতা এবং হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। লন্ডন থেকে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য বলছে ইরানে বিক্ষোভ দমনে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে নিরাপত্তাবাহিনী। তাদের দাবি ৪৮ ঘণ্টায় ইরানে প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে আবারও সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ইরানের মানুষ স্বাধীনতা চায় উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এতে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।
২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে রূপ নেয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে।