দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ২০ শতাংশের বেশি স্মার্টফোন অবৈধ পথে আনা। এতে বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর এক হোটেলে মোবাইল ফোন শিল্প সংগঠনের সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়।
সংগঠনটি জানায়, অবৈধ ফোনের দৌরাত্ম্যে স্থানীয় কারখানাগুলো সক্ষমতার চেয়ে কম উৎপাদন করছে। তাদের মতে, এনইআইআর ব্যবস্থা ভোক্তার নিরাপত্তার জন্যেও জরুরি।
কয়েক বছর আগেই অবৈধ পথে আমদানি হওয়া মোবাইল সেট বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার- এনইআইআর ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সে চেষ্টা বাস্তবায়ন করতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইসিটি মন্ত্রনালয় আবারও আইডেন্টিটি রেজিস্টার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে, লাগেজ বা শুল্কফাঁকিতে আনা মোবাইল ফোন বিক্রেতারা কঠোর আন্দোলনে নামে। যদিও ডিসেম্বরের শেষদিকে এনইআইআর প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বিটিআরসি।
মোবাইল শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ১৮টি স্মার্টফোন কোম্পানি উৎপাদনে আছে। দেশের বাজারে বছরে বিক্রি হয় ১ কোটির বেশি স্মার্টফোন। কিন্তু ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়া হ্যান্ডসেটের বড় অংশই অবৈধভাবে দেশে আনা হয়।
শাওমি টেকনোলজিস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গত মাস পর্যন্ত যে শুল্ক (ট্যাক্স) ছিল তাতে আমরা দেখি যে, ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার মতো শুল্ক ক্ষতি (ট্যাক্স লস) হয়েছে শুধুমাত্র অবৈধভাবে আনা স্মার্টফোন থেকে। এনইআইআর যদি বাস্তবায়িত হয়, অবৈধভাবে ফোন আমদানি যদি বন্ধ হয়, আমরা মনে করি ২ মিলিয়নের মতো ফোন ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মোবাইল আমদানির শুল্ক কমানোর পক্ষে স্থানীয় শিল্প সংশ্লিষ্টরাও। তবে অবৈধ সেটের ব্যবসারোধে, বাজারে শৃঙ্খলা রক্ষায় এনইআইআর ব্যবস্থা অপরিহার্য।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, ‘কমার্স আইনে রিফারবিশড্ প্রোডাক্ট বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। এতে ৪টা আইনের লঙ্ঘন হয়। এখন এই বিষয়টি আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম, আপনার চিন্তার ওপর ছেড়ে দিলাম যে, এই যে অবৈধ কাজটি করতে না দেওয়াটা কি বৈষম্য, না কি আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি যারা বৈধভাবে বিজনেস করছি।’
মোবাইল ফোন শিল্প মালিকরা বলছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে স্মার্টফোনের বাজার হবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। সরকারি নীতি সহায়তা পেলে বাংলাদেশও রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।