বাংলাদেশের সরকার থেকে এমন সিদ্ধান্ত আসবে তা অনেকটা আগে থেকেই আঁচ করা গিয়েছিল। অবশেষে হলো তা-ই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ। গতকাল আইসিসি থেকে একদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে। অবশেষে আজ একদিন না যেতেই ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে না খেলার সিদ্ধান্ত বদলাবে না। আইসিসির আল্টিমেটামের বিপরীতে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের অর্থ তো একটাই দাঁড়ায় – বিশ্বকাপে যাচ্ছে না বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চূড়ান্ত এ সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আইসিসিকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
গতকাল আইসিসির সভায় বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার অবস্থানের ইস্যুতে ভোটাভুটি করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরানো হবে কি না – এই অবস্থান নিয়ে আইসিসির ১৬ সদস্যের বোর্ডের প্রতিনিধির মধ্যে জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশের অবস্থান পরিবর্তন না হলে অন্য দেশ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। এই মর্মে সকলের মত জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশের অবস্থানের পক্ষে মাত্র দুটি ভোট পড়ে। বাকি ১৪টি ভোটই ছিল বিপক্ষে।
ক্রিকইনফো জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেললে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ড সুযোগ পেতে পারে ২০ দলের বিশ্বকাপে।
গতকাল আইসিসির বিবৃতিতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে বিসিবির সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ সময় ভেন্যুভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরা হয়।
আইসিসি সেই বিবৃতিতে আরও বলেছে, স্বাধীন সংস্থার প্রতিবেদনসহ সব ধরনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সংবাদমাধ্যমকর্মী কিংবা সমর্থকদের জন্য কোনো ধরনের হুমকি নেই।
আইসিসি বোর্ড সভা শেষে তাদের দেওয়া বিবৃতিতে আরও জানায়, টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তন বাস্তবসম্মত নয়। নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকা সত্ত্বেও এমন পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতে আইসিসির আসরগুলোর নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং একটি ঝুঁকিপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।