রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুটি ব্যাংক রেখে বাকিগুলো একীভূত করার প্রস্তাব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। রাজধানীতে ব্যাংকিং খাত নিয়ে এক অনুষ্ঠানে গভর্নর আশঙ্কা জানিয়ে বলেন, সংশোধিত বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ অনুমোদন না হলে ব্যাংক খাতে আবারও রাজনৈতিক প্রভাব ফিরে আসতে পারে। তিনি বলেন, দুর্বৃত্তায়ন, পরিবারতন্ত্র ও সুশাসনের অভাবে গত দেড় দশকে ব্যাংক থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে।
আওয়ামী সরকারের গেল দেড় দশকে এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী ডজন খানেক ব্যাংকের অনুমোদন ও নামে-বেনামে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে লুটপাট ও পাচার করেছে বলে অভিযোগ আছে। ফলে এ খাত এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। কোনো ব্যাংক দুর্বল হলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের সংখ্যাও কমানোর পরিকল্পনার কথা জানান গভর্নর।
‘সরকারের কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছি যে, দুটো রাষ্ট্রীয় ব্যাংক রেখে বাকিগুলো মার্জ করে দেন। …তো সরকার, যা হয় সাধারণত, দেখি-দেখছি করছে। কিছু সিগন্যাল দেয়, আবার একটু পিছিয়ে দেয়’ – বলেছেন ড. আহসান এইচ মনসুর।
এসময় গভর্নর বলেন, সুশাসনের অভাবে ব্যাংক থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কারের জন্য একটি রেজোলুশন ফান্ড গঠন করা হচ্ছে বলেও জানান, ‘আমাদের একটা লক্ষ্য হচ্ছে, এই ফান্ডটাকে সামনে আনা এবং এই ফান্ডটার মাধ্যমে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা যদি আমরা একপাশে সরিয়ে রাখতে পারি, সেটা ভবিষ্যৎ সংকটের সময়ে হস্তক্ষেপ করার মতো হাতের কাছে থাকা একটা তৈরি ফান্ড হয়ে থাকবে।’
গভর্নর বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য বন্ড ও পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী না করলে ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যাংক খাতের লুটপাটের জন্য শুধু মালিক নয়, ব্যাংকাররাও সমানভাবে দায়ী বলে মনে করেন তিনি।
‘ব্যাংকিং খাতে কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব আবারও আসবে, এটাই শেষ না। যেটা হয়েছে সেটা যে আবার রিপিট হবে না…রিপিট হওয়াটাই স্বাভাবিক, কারণ আমরা তো শিখে ফেলেছি কীভাবে করতে হয়! এখন এই শিখাটাকেই যদি আমরা বারেবারে কাজে লাগাতে থাকি, তাহলে তো এই খাত কোনোদিনও পুনর্গঠন করা যাবে না’ – বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর।
খেলাপি ঋণ আদায়ে এক বছরের মধ্যেই মামলা নিষ্পত্তির জন্য অর্থঋণ আদালত আইনের সংস্কার করা হবে। আগামী মার্চের মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশ নেমে আসবে বলেও আশা করেন গভর্নর।