২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে কি না তার উত্তর হয়তো আর একদিন পরেই জানা যাবে। আইসিসি আজ জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশকে খেলতে হলে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে, নতুবা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো দলকে বিশ্বকাপে ডেকে নেবে আইসিসি।
নিরাপত্তাশঙ্কাকে কারণ দেখিয়ে ভারতে যেতে না চাওয়া বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এক দিনের সময় দিয়েছে আইসিসি। তবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখনো আশায়, কোনো মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনা ঘটবে এবং আইসিসি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে।
আজ আইসিসির বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষেই পড়েছে ১৬ ভোটের ১৪টি। আইসিসি পরে জানিয়েছে, বাংলাদেশের দিক থেকে ভারতে যে নিরাপত্তাশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি তারা খুঁজে পায়নি। তা আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টা পর ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, তিনি আইসিসির তরফ থেকে মিরাকলের আশায় আছেন।
আইসিসি আজ বোর্ড সভার পর বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইসিসিকে জানাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সম্মতি না এলে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে অন্য একটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিবর্তে গ্রুপ ‘সি’–তে স্কটল্যান্ডের খেলার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
এই পরিস্থিতিতে বিসিবিকে আবারও সরকারের কাছে ফিরে যেতে হচ্ছে। বিসিবি সূত্র ক্রিকবাজকে জানিয়েছে, সরকার এখনো তাদের অবস্থান বদলাতে রাজি নয়। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইসিসি বোর্ড সভা প্রসঙ্গে ক্রিকবাজকে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখনো আইসিসির কাছ থেকে একটি মিরাকলের আশা করছি। কে না বিশ্বকাপ খেলতে চায়? আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পর আমরা আর কিছু বলতে পারছি না। প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। ভোটের আগে আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি। আমরা ভোটাভুটিতে যেতে চাইনি, তাই সরে দাঁড়িয়েছিলাম।’
বোর্ড সভাপতি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ খেলতে চায়। বাংলাদেশ সরকারও চায় আমরা খেলি। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, ভারত আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ নয়। তাই আমরা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর অনুরোধ করেছি।’
আমিনুল ইসলাম জানান, বিকল্প হিসেবে বিসিবি আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘ওটাই সবচেয়ে সহজ সমাধান হতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে, তারা গ্রুপে নতুন দল চায় না। ভোটের পর আমি আইসিসিকে বলেছি — সরকারকে জানিয়ে আরেকবার মতামত নিতে চাই। তারা সেটাকে যুক্তিসংগত বলে মনে করেছে এবং আমাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে।’
বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি সরকারের ওপর চাপ দিতে চাই না। সরকার শুধু খেলোয়াড়দের বিষয় নয়, সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা আবার কথা বলব এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া আইসিসিকে জানাব।’