হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য ঘিরে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা আর খুনোখুনি। দেশের ভেতরে যেন এক আলাদা রাজ্য চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর। পাহাড় কেটে বানানো হাজারো ঘর-বাড়ি আর সরকারি জমিতে প্লট বানিয়ে বিক্রি চলছে ছিন্নমূল সমিতির নামে। আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে ১৭ মাসে মারা গেছে পাঁচজন। সবশেষ সোমবার অভিযানে গিয়ে নিহত হন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব।
চট্টগ্রাম নগরীর পাশেই সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা। পাহাড়ঘেরা দুর্গের মতো এলাকায় চলছে সরকারি জমি দখলের মহোৎসব। স্থানীয়রা জানান, জঙ্গলে বাস্তুহারা-ছিন্নমূল সমিতির নামে জমি দখল করে বিক্রি করা হচ্ছে কম দামে। আবার প্রতি মাসে পানি, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা সেবার নামে তোলা হয় কোটি টাকার চাঁদা। কম দামে জমি কিনে মানুষেরা বছরের পর বছর জিম্মি থেকে যাচ্ছে সমিতির হর্তাকর্তাদের কাছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এখানে যে পরিবারগুলো থাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত পরিবার সেগুলো। অবৈধ দখল করা এসব জমির স্থায়ী বন্দোবস্ত করতে হবে।
তবে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনায় কীভাবে বিদ্যুৎ, পানির মতো সরকারি সেবা পাওয়া যাচ্ছে-সেটি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ কর্মী পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরীফ চৌহান।
পুলিশ বলছে, মশিউর, ইয়াসিন, সাদেক কিংবা গফুর মেম্বারের নেতৃত্বে অন্তত ছয়টি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে এই পাহাড়। ৫ আগস্টের পর যোগ হয়েছে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা রোকন মেম্বারের নাম।
যাতায়াত, ভৌগোলিক কারণে এ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ পুলিশও।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মুখপাত্র মো. রাসেল বলেন, আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে ১৭ মাসে প্রাণ গেছে ৫ জনের। সবশেষ সোমবার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন র্যাবের কর্মকর্তা। এ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পুরোপুরি কাজ করে না। কারণ এখানকার অধিকাংশ মানুষ স্থানীয় নয়। এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, মিডিয়া পারসন এবং অন্যান্য বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
২০২২ সালে এলাকাটি ১১ ভাগ করে কেন্দ্রীয় কারাগার-২ ও নভোথিয়েটারসহ মহাপরিকল্পনা হাতে নেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু দখলদারের দাপটে আটকে আছে সব কাজ।